মার্কিন সাহিত্য
উনবিংশ শতাব্দীর লেখক ও হাস্যরসাত্মক রচয়িতা মার্ক টোয়েন; উনবিংশ শতাব্দীর লেখক, কবি ও সাহিত্য সমালোচক এডগার অ্যালান পো; বিংশ শতাব্দীর লেখক ও ঔপন্যাসিক জন স্টাইনবেক; ঔপন্যাসিক টনি মরিসন; বিংশ শতাব্দীর লেখিকা ও কবি লুইজ গ্লিক; এবং বিংশ শতাব্দীর লেখক ও ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।
}}থাম্ব|২০১৯ এশিয়ান মার্কিন সাহিত্য উৎসব মার্কিন সাহিত্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর পূর্বসূরী ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে রচিত বা উৎপাদিত সাহিত্য। মার্কিন সাহিত্যিক ঐতিহ্য মূলত ইংরেজি ভাষার সাহিত্যের বৃহত্তর ঐতিহ্যের একটি অংশ, তবে এতে ইংরেজি ব্যতীত অন্যান্য ভাষায় রচিত সাহিত্যও অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন বিপ্লবী যুগ (১৭৭৫–১৭৮৩) বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, অ্যালেনজান্ডার হ্যামিলটন, টমাস পেইন এবং টমাস জেফারসন-এর রাজনৈতিক লেখালিখির জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৭৯১ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম হিল ব্রাউন-এর ''দ্য পাওয়ার অফ সিম্প্যাথি'' হলো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাথমিক উপন্যাস। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে লেখক ও সমালোচক জন নীল তার পূর্বসূরী ওয়াশিংটন আরভিং-এর মতো লেখকদের ব্রিটিশ অনুকরণ করার সমালোচনা করে এবং এডগার অ্যালান পো-এর মতো লেখকদের প্রভাবিত করে আমেরিকাকে একটি অনন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন। পো মার্কিন কবিতা এবং ছোটগল্পকে এক নতুন দিশা প্রদান করেন। রাল্ফ ওয়াল্ডো এমারসন প্রভাবশালী অতিন্দ্রিয়বাদ (ট্রানজেন্ডেন্টালিজম) আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ছিলেন; ''ওয়ালডেন''-এর লেখক হেনরি ডেভিড থরো এই আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। দাসপ্রথা বিলোপবাদ সংক্রান্ত সংঘাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর মতো লেখকদের এবং ফ্রেডরিক ডগলাস-এর মতো দাস আখ্যানের লেখকদের অনুপ্রাণিত করেছিল। নাথানিয়েল হথর্ন-এর ''দ্য স্কারলেট লেটার'' (১৮৫০) এবং হারমান মেলভিল-এর ''মোবি-ডিক'' (১৮৫১) মানুষের স্বভাবের অন্ধকার দিকগুলো অন্বেষণ করেছিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রধান মার্কিন কবিদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ল্ট হুইটম্যান, মেলভিল এবং এমিলি ডিকিনসন। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রধান লেখক ছিলেন মার্ক টোয়েন। অন্যদিকে হেনরি জেমস তার ''দ্য পোর্ট্রেট অফ আ লেডি'' (১৮৮১)-এর মতো উপন্যাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আধুনিকতাবাদী সাহিত্য উনবিংশ শতাব্দীর রূপ এবং মূল্যবোধগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। এফ. স্কট ফিটজেরাল্ড ১৯২০-এর দশকের নিশ্চিন্ত মেজাজকে তার লেখায় তুলে ধরেন। তবে জন ডস প্যাসোস এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (যিনি ''দ্য সান অলসো রাইজেস'' এবং ''আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস''-এর মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন) ও উইলিয়াম ফকনার পরীক্ষামূলক সাহিত্যরূপ গ্রহণ করেন। মার্কিন আধুনিকতাবাদী কবিদের মধ্যে ওয়ালেস স্টিভেন্স, টি. এস. এলিয়ট, রবার্ট ফ্রস্ট, এজরা পাউন্ড এবং ই. ই. কামিংস-এর মতো বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মহামন্দার যুগের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন জন স্টেইনব্যাক, যিনি ''দ্য গ্রেপস অফ র্যাথ'' (১৯৩৯) এবং ''অফ মাইস অ্যান্ড মেন'' (১৯৩৭)-এর জন্য বিখ্যাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ নরম্যান মেইলার-এর ''দ্য নেকেড অ্যান্ড দ্য ডেড'' (১৯৪৮), জোসেফ হেলার-এর ''ক্যাচ-২২'' (১৯৬১) এবং কার্ট ভনেগাট জুনিয়র-এর ''স্লটারহাউস-ফাইভ'' (১৯৬৯)-এর মতো কাজের জন্ম দেয়। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নাট্যকারদের মধ্যে রয়েছেন ইউজিন ও’নিল, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নাট্যজগতে টেনেসি উইলিয়ামস এবং আর্থার মিলার আধিপত্য বিস্তার করেন। পাশাপাশি মিউজিক্যাল থিয়েটারও তখন বেশ জনপ্রিয় ছিল।
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অভিবাসী, জাতিগত এবং এলজিবিটি লেখকদের সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি ভিন্ন অন্য ভাষায় রচিত সাহিত্যের প্রতি জনপ্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোর অগ্রদূতদের মধ্যে রয়েছেন এলজিবিটি লেখক মাইকেল কানিংহাম, এশীয় মার্কিন লেখক ম্যাক্সিন হং কিংসটন ও ওশেন ভুওং এবং আফ্রিকান মার্কিন লেখক রাল্ফ এলিসন, জেমস বল্ডউইন ও টনি মরিসন। ২০১৬ সালে লোক-রক (folk-rock) গীতিকার বব ডিলান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উইকিপিডিয়া দ্বারা উপলব্ধ
-
1
-
2