নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, নাপলেওঁ বনাপার্ত্, ।}} (জন্ম নাম: নাপোলেওনে দি বুয়নাপার্তে;, নাপোলেওনে দি ব্ৱনাপার্তে, ।}} ১৫ আগস্ট ১৭৬৯ – ৫ মে ১৮২১) একজন ফরাসি সামরিক কর্মী ও কূটনীতিজ্ঞ, যিনি ফরাসি বিপ্লবের সময় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং ১৭৯৬ থেকে ১৮১৫ পর্যন্ত ফরাসি বিপ্লবী ও নেপোলিয়নীয় যুদ্ধসমূহ পর্ব চলাকালীন ইউরোপজুড়ে একাধিক সফল সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৭৯৯ থেকে ১৮০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রথম কনসাল ছিলেন। পরে ১৮০৪ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফরাসি সম্রাট ছিলেন। তারপর ১৮১৫ সালে ১০০ দিনের জন্য তিনি ফরাসি সম্রাট ছিলেন, যা "একশো দিনের শাসন" বলে পরিচিত।নেপোলিয়ন ফ্রান্সের কর্সিকা দ্বীপে এক ইতালীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৭৭৯ সালে তিনি ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। ১৭৮৫ সালে তিনি ফরাসি রাজকীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের সমর্থন করেছিলেন এবং কর্সিকা দ্বীপে এর প্রচার করেছিলেন। ১৭৯৬ সালে প্রথম জোটের যুদ্ধ চলাকালীন নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়া ও তার ইতালীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে এক সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি চূড়ান্তভাবে জয়ী হয়েছিলেন এবং ফ্রান্সের জাতীয় নায়ক হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন। ১৭৯৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী মিশর ও সিরিয়ার উপর আক্রমণ করেছিল, যা তাঁকে একঝাঁপে রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিল। ১৭৯৯ সালের নভেম্বরে ফরাসি ডিরেক্টরির বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থানের আয়োজন করেছিলেন এবং তিনি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রথম কনসাল হয়েছিলেন। ১৮০০ সালে নেপোলিয়ন মারেঙ্গো যুদ্ধ জয় করেছিলেন, যা দ্বিতীয় জোটের যুদ্ধে ফ্রান্সের জয় সুনিশ্চিত করেছিল। ১৮০৩ সালে নেপোলিয়নের সময় ফ্রান্স তার লুইজিয়ানা উপনিবেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্রয় করেছিল। ১৮০৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি নিজেই নিজেকে ফরাসি সম্রাট হিসাবে অভিষিক্ত করেছিলেন, যা তাঁর ক্ষমতবৃদ্ধি করেছিল।
অঁমিয়ে চুক্তির ভাঙনের ফলে ১৮০৫ সালে তৃতীয় জোটের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আউস্টারলিৎসের যুদ্ধে নেপোলিয়ন এই জোট ভেঙে দিয়েছিলেন, যার ফলে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল। চতুর্থ জোটের যুদ্ধ চলাকালীন ১৮০৬ সালে ইয়েনা-আউয়ারস্টেটের যুদ্ধে নেপোলিয়ন প্রুশিয়াকে পরাজিত করেছিলেন। ১৮০৭ সালে তাঁর গ্রঁদ আর্মে () পূর্ব ইউরোপের দিকে কুচকাওয়াজ চালিয়েছিল এবং ফ্রিডলান্ডের যুদ্ধে রুশদের পরাজিত করেছিল। ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তাঁর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রসারণের জন্য ১৮০৮ সালে নেপোলিয়ন আইবেরিয়া আক্রমণ করেছিলেন এবং তাঁর ভ্রাতা জোসেফ বোনাপার্টকে স্পেনের রাজার আসনে বসিয়েছিলেন, যার ফলে ১৮০৯ সালে উপদ্বীপীয় যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ১৮০৯ সালে পঞ্চম জোটের যুদ্ধে অস্ট্রিয়ানরা ফ্রান্সকে আহ্বান করেছিল, আর ভাগ্রামের যুদ্ধ জয় করে নেপোলিয়ন ইউরোপে তাঁর দাম্পত্যকে আরও মজবুত করেছিলেন। ১৮১২ সালে গ্রীষ্মকালে তিনি রাশিয়া আক্রমণ শুরু করেছিলেন, কিন্তু ঐ বছরের শীতকালে এটি ফরাসি সেনাবাহিনীর বিপর্যয়কারী পশ্চাদপসরণে সমাপ্ত হয়েছিল। ১৮১৩ সালে ষষ্ঠ জোটের যুদ্ধে প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়া রাশিয়ার সাথে হাত মিলিয়েছিল, এবং লাইপজিগের যুদ্ধে নেপোলিয়ন পরাজিত হয়েছিলেন। সেই ষষ্ঠ জোট বাহিনী ফ্রান্সে আক্রমণ করেছিল এবং প্যারিস দখল করেছিল, যার ফলে ১৮১৪ সালে এপ্রিলে নেপোলিয়ন সিংহসনচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই জোট বাহিনী তাঁকে ভূমধ্যসাগরের এলবা দ্বীপে নির্বাসিত করেছিল এবং বুরবোঁ রাজবংশকে পুনরায় ফ্রান্সের ক্ষমতায় এনেছিল। দশ মাস পর নেপোলিয়ন জাহাজে করে হাজার মানুষসহ এলবা দ্বীপ থেকে ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। সেই হাজার মানুষ মিলে নেপোলিয়ন প্যারিসের সিকে কুচকাওয়াজ চালিয়ে ক্ষমতা পুনরায় লাভ করেছিলেন। তাঁর বিরোধীরা সপ্তম জোট গঠন করে আর ১৮১৫ সালের ওয়াটারলুর যুদ্ধে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। নেপোলিয়নকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের নির্জন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়েছিল এবং ১৮২১ সালে ৫১ বছর বয়সে পাকস্থলীর ক্যান্সারে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইতিহাসের অন্যতম সেনাপতি হিসাবে পরিচিত এবং নেপোলিয়নীয় সমরকৌশল এখনও বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। নেপোলিয়নীয় বিধির মাধ্যমে তিনি ফ্রান্স ও পশ্চিম ইউরোপে আইন ও প্রশাসনে আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা করেছিলেন। তিনি গণশিক্ষা চালু করেছিলেন, সামন্ততন্ত্রের বিন্দুবিসর্গের অবসান ঘটিয়েছিলেন, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মুক্তি দিয়েছিলেন, স্পেনীয় ইনকুইজিশনের অবসান ঘটিয়েছিলেন, আবির্ভূত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের জন্য আইনের আগে সাম্যের নীতি চালু করেছিলেন এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। তাঁর অভিযানসমূহ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জাতিরাষ্ট্রের বিকাশের অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছিল। তবে ইউরোপে বিধ্বংসী যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা, যুদ্ধে জয় করা অঞ্চলে লুটপাট এবং আংশিক নাগরিক অধিকার প্রদানের জন্য তিনি একজন বিতর্কিত চরিত্রও বটে। তিনি মুক্ত সংবাদপত্রের অবসান ঘটিয়েছিলেন, সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের অবসান ঘটিয়েছিলেন, তাঁর শাসনের সমালোচকদের কারাগারে বন্দি করতেন বা নির্বাসিত করতেন, হাইতি ব্যতীত অন্যান্য ফরাসি উপনিবেশে দাসপ্রথা পুনরায় চালু করেছিলেন, কৃষ্ণাঙ্গ ও মুলাটোদের ফ্রান্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, ফ্রান্সে নারী ও শিশুদের নাগরিক অধিকার খর্ব করেছিলেন, বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্র পুনরায় চালু করেছিলেন আর তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনকে হিংস্রভাবে দমিয়ে রেখেছিলেন। উইকিপিডিয়া দ্বারা উপলব্ধ
-
1
-
2
-
3
-
4
-
5
-
6
-
7
-
8
-
9
-
10
-
11
-
12
-
13
-
14
-
15
-
16
-
17
-
18
-
19
-
20